সোশ্যাল মিডিয়া জগতে সবচেয়ে বেশি ইউজার ফেসবুকে। প্রতিদিন ১.৬২ বিলিয়ন মানুষ ফেসবুক ভিজিট করে। এখানে ইউজার বেশি হওয়ায় প্রত্যেক মার্কেটার ফেসবুক কে আলাদা ভাবে ফোকাস করে থাকে।

facebook users snapchat twitter youtube whatsapp instagram wechat qq

ফেসবুক মার্কেটিং করার জন্য একটি ফেসবুক প্রোফাইল থাকা আবশ্যক।

ফেসবুক মার্কেটিং

➤ কিভাবে ফেসবুক পেজ তৈরি করবেন
➤ কিভাবে লাইক পাবেন
➤ ফেসবুক পোস্ট কিভাবে করবেন
➤ ফেসবুক মার্কেটিং কৌশল
ফেসবুক পেজ তৈরি

ফেসবুকে কোন বিজনেস দাঁড় করার জন্য ফেসবুক বিজনেস পেজ অনেক ভুমিকা রাখে।

১। ফেসবুক পেজ তৈরির প্রক্রিয়া

ফেসবুক পেজ তৈরি করার জন্য “Create a page” অপশন এ যেতে হবে।
সেখানে দুটি ক্যাটাগরি আছে, সেখান থেকে একটি তে ক্লিক করতে হবে।

How to Create Facebook Page

বিজনেস পেজ খোলার জন্য ১ম অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে।

এরপর আপনার বিজনেস ব্র্যান্ড নামটি দিয়ে ক্যাটাগরি সিলেক্ট করতে হবে।

facebook business page create

ক্যাটাগরি সিলেক্ট করার পর “get stated” বাটন এ ক্লিক করার সাথে সাথে আপানার বিজনেস পেজটি খুলে যাবে।

facebook page

ফেসবুক প্রোফাইল পিকচার

প্রথমে ফেসবুক পেজের জন্য একটি প্রোফাইল পিকচার নির্বাচন করতে হবে। এবার পিকচারটির সঠিক সাইজ “180 x 180” করে আপলোড দিন। যদি আপনার ইমেজটি সঠিক সাইজের না হয় তাহলে আপলোড করার পর ক্রপ করে সঠিক সাইজ দিতে পাবেন।

ফেসবুক কভার ইমেজ

ফেসবুক পেজের জন্য একটি কভার ইমেজ আপলোড করতে হবে। এর সঠিক সাইজ ” 851 x 315″.

একটি শর্ট ডেসক্রিপসন অ্যাড

পেজটিকে সহজে খুঁজে পাওয়ার জন্য একটি ডেসক্রিপসন অ্যাড করতে হবে। এটি যেন অবশ্যই পেজ সম্পর্কিত হয়।

facebook page description

এডিট পেজ About

ফেসবুকের About এ আপনার বিজনেস সম্পর্কিত সব তথ্য দিতে হবে। যেন সেগুলো আরও ভালো ইউজার ট্রাস্ট হয়। তাহলে কনভার্সন রেট বেশি হবে।

facebook page about

পেজের জন্য একটি ইউজার নাম (User Name) সিলেক্ট

ব্র্যান্ডিং পেজের জন্য User Name আবশ্যক। তাই পেজ সম্পর্কিত একটি User name তৈরি করে নিন।

set your facebook page username

পেজ কল টু অ্যাকশন বাটন

২০১৪ সালে যুক্ত হওয়া পেজের কল টু অ্যাকশন বাটন যা ইউজারকে আরও ট্রাস্ট করতে সাহায্য করে। কল টু অ্যাকশন বাটনটি অ্যাড করার জন্য “ADD a button” অপশন এ ক্লিক করতে হবে। এরপর “send message” “contact us” “call now” ইত্যাদি অপশনের যেকোন একটি সিলেক্ট করতে হবে। এবার “next” ক্লিক করে বাটনটি তৈরি করতে হবে।

facebook page call to action button

ভেরিফাই ফেসবুক পেজ

ফেসবুক পেজ ভেরিফাই করার জন্য অবশ্যই কিছু টার্গেট কমপ্লিট করতে হবে। ফেসবুক তাদের ভেরিফাই করার সুযোগ দেয় যাদের পেজ এ অনেক ভিজিটর ও কনভার্সন রেট ভালো।

তাই পাবলিক ফিগার, এবং ব্র্যান্ড পেজ তৈরি করার পর setting>general অপশন এ গিয়ে পেজ ভেরিফাই করাতে হবে।

get verify facebook page account

২. ফেসবুক পেজ লাইক

 ফেসবুক পেজ লাইক

ফেসবুক পেজে লাইক পাওয়ার জন্য প্রয়োজন ভালো পোস্ট বা কুয়ালিটি সম্পন্ন পোস্ট। তাই কুয়ালিটি পোস্ট করতে হবে। তবে সবসময় নিউজ ফিড পোস্ট না করে স্টোরি শেয়ার করুন। ফেসবুকের অ্যালগরিদম পেজ এ ইউজার ইংগেজমেনট রেশিও দেখে, পেজের ফলোয়ার দ্যাখে না।

আপনি ফেসবুক পেজ লাইক কিনতে পাবেন ইউজার ইংগেজমেনট রেশিও রেট বাড়ানোর জন্য। তবে অন্য কোথাও থেকে পেজ লাইক কিনবেন না। গুগল এ সার্চ করে যে রেজাল্ট গুলো পাবেন ওরা ভালো সার্ভিস দিয়ে থাকে।

আপনার পেজের নিউজ ফিড এ থাকা পোস্ট গুলো বিভিন্ন গ্রুপ এ শেয়ার করে লাইক পাওয়া যাবে।

৩. ফেসবুক পোস্ট

ফেসবুক পেজ পোস্ট

ফেসবুকে পোস্ট করার জন্য আপনাকে ফেসবুক পেজের উপরে থাকা “create post” এর ড্যাশবোর্ড এ ক্লিক করতে হবে।

create post on facebook

আপনি যে দেশকে টার্গেট করতেছেন সেই দেশের সময় অনুযায়ী পোস্ট করতে হবে। তা না হলে পোস্ট গুলো কেউ দেখবে না।

FB_Infographic

যদি মনে করেন প্রতিদিন এই সময়ে পোস্ট করা সম্ভব না। তার বিকল্প হিসেবে আপনি একদিনে ১মাসের পোস্ট শিডিউল করে রাখতে পাবেন। এতে প্রতিদিন পোস্ট এর জন্য সময় বের করতে হবে না।

how to schedule facebook page post schedule

ভিডিও

পোস্ট এর ফাঁকে ফাঁকে ভিডিও শেয়ার করতে হবে। ভিডিও শেয়ার করার জন্য “upload photo/video” অপশন এ ক্লিক করার পর কম্পিউটার থেকে ভিডিও ফাইল সিলেক্ট করতে হবে।

এক্ষেত্রে ফানি টাইপ ভিডিও গুলো ভালো ফলাফল দ্যায়।

৪. ফেসবুক মার্কেটিং

ফেসবুক মার্কেটিং

ফেসবুক মার্কেটিং এ পোস্ট করা একটি বড় অংশ। কী এবং কখন পোস্ট করা উচিত তা জানা ফেসবুক বিপণনের আসল চ্যালেঞ্জ।

একটি সফল ফেসবুক মার্কেটিং করতে প্রথমে ভিজিটরদের সম্পর্কে আপনার বিস্তর ধারনা থাকা প্রয়োজন। তারপর আপনাকে যা করতে হবে

১। ভিজিটররা সহজে খুঁজে পায় সে অনুযায়ী আপনার পেজটি তৈরি করা।
২। আপনার পোস্ট সময় গুলো লোকেশন অনুযায়ী সেট করা।
৩। আপনার অফার গুলো সংযুক্ত করা।

ভিজিটর নির্বাচন করা

ভিজিটর নির্বাচনে যদি এক ধাপ পিছিয়ে যান, তাহলে মার্কেটিং এ ও একধাপ পিছিয়ে যাবেন। কাজেই টার্গেট করুন কারা আপনার পেজটিকে মূল্যায়ন করতে পারে।

আপনার নির্ধারিত বিষয়ে আপনার কাঙ্ক্ষিত ভিজিটরদের এই সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যা যা হতে পারে, বিভিন্ন ধরনের তথ্য, ও আপনার দক্ষতা গুলো শেয়ার করতে পারেন।

ভিজিটররা কি চায় তাদের কাছে শুনুন, প্রয়োজনে তাদের সাক্ষাতকার নিতে পারেন। আপনার পেজ এ তাদের কথা গুলো পোস্ট করবেন এই বলে তাদের অফার করুন। দেখবেন আপনার সবগুলো পোস্টে এখন লাইক আসে।

সবসময় মার্কেটিং এর চিন্তা করবেন না। তাদের আপনার বিষয় সম্পর্কিত তথ্য দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করুন আপনিই বেস্ট। এতে দুটি সুবিধা একসাথে পাবেন ১। আপনার ফলোয়ার বাড়বে ২। আপনি তাদের কাছে খুব সহজেই আপনার প্রোডাক্ট গুলো তুলে ধরতে পাবেন।

ভিজিটরদের ব্যবহার

পেজ এ ভিজিট করার পর তারা আপনার পেজ এ কেমন ব্যবহার করছে তা চেক করার জন্য পেজের “insights” অপশন এ ক্লিক করে চেক করতে হবে।

এটি আপনাকে প্রতিদিন চেক করতে হবে, এবং সেখান থেকে বুজতে হবে ভিজিটররা আপনার পেজে কেমন ব্যবহার করছে।

facebook page insights

পোস্ট শেয়ার

ফেসবুক করা পোস্ট গুলো আপনাকে নিয়মিত শেয়ার করতে হবে। এজন্য আপনার বিষয় রিলেটেড গরুপ গুলো খুঁজে বের করুন। রিলেটেড গ্রুপ বের করার জন্য ফেসবুক সার্চ বক্স এ আপনার বিষয় সার্চ করতে হবে। এরপর গ্রুপ অপশন সিলেক্ট করলে গ্রুপ গুলো পেয়ে যাবেন

তারপর গ্রুপ গুলোতে “join” করুন। কোন কোন গরুপ এ “FAQ” প্রশ্ন চাইলে সঠিক উত্তর দিন। কিছু সময় পর আপনাকে যুক্ত করবে। এবার আপনার পেজে করা পোস্ট গুলো অই গ্রুপ গুলায় শেয়ার করুন। দেখবেন গ্রুপ থেকে কিছু ভিজিটর আপনার পেজে ভিজিট করতেছে।

তবে গ্রুপ এর রুলস গুলো ভালো ভাবে পরে নিবেন।

আজকে এই এতটুকু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.