ফ্রিল্যান্সিং কি


ফ্রীল্যান্স(Freelance) কথাটি Free এবং Lance শব্দ থেকে এসেছে। গতানুগতিক চাকরীর বাহিরে নিজের ইচ্ছা মত কাজ করার স্বাধীনতাকে ফ্রীলান্সিং বলে।

ফ্রীলান্সিং বর্তমান তরুণ সমাজে সবথেকে আলোচিত এবং আগ্রহের বিষয়। ১৯০০ শতকের পর থেকে এর প্রচার এবং প্রসার বাড়তে থাকে। বাংলাদেশের যুবকদের একটি জনপ্রিয় পেশার মধ্যে এটিও একটি বিরাট অংশ জুরে রয়েছে। বিশ্বের কয়েকটি ভালো ফ্রীলাঞ্চিং সাইটের মধ্যে ওডেস্ক বাংলাদেশিদের জন্য সব থেকে জনপ্রিয় সাইট। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০১২ সালে বাংলাদেশ ছিল ফ্রীলাঞ্চিং-এ তৃতীয় স্থানে।

ফ্রিল্যান্সার (Freelancer) হচ্ছে এমন একজন ব্যক্তি যিনি কোনো নির্দ্দিষ্ট  প্রতিষ্ঠানের সাথে কোনো প্রকার চুক্তিবদ্ধ না হয়ে স্বাধীন ভাবে কাজ করে থাকে। আমরা ফ্রীলান্সিং সম্পর্কে এককথায় বলতে পারি, ফ্রীলান্সার হচ্ছে স্বাধীন মানুষ যিনি নিজের দক্ষতা অনুযায়ী বিভিন্ন প্রতিস্থানের কাজ করে থাকে, সেটি হতে পারে ফুল টাইম বা পার্ট টাইম। ফ্রীলান্সারদের কাজের জন্যে নির্দিষ্ট কোন payment থাকে না। কাজের ধরন অনুযায়ী Payment নির্ধারিত হয়।

আউটসোর্সিং কি


আউটসোর্সিং হচ্ছে কোন প্রতিষ্ঠান যদি একটি প্রোজেক্ট এর জন্যে অন্য প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোন দক্ষ ব্যাক্তিকে ভাড়া করে তাহলে সেটিকে আউটসোর্সিং বলে।

যারা আউটসোর্সিং করে তাদের সাধারণত আউটসোর্সার বা বায়ার বলা হয়। এরাই ফ্রীল্যান্সার দের ক্লায়েন্ট হয়ে থাকে।

ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং এর মধ্যে পার্থক্য?


আমাদের দেশের অনেকেই আউটসোর্সিং এবং ফ্রীলান্সিং বিষয় নিয়ে অনেক দিধাদন্ধে থাকেন। অনেকেই তোহ মনে করেন, আউটসোর্সিং আর ফ্রীলান্সিং এর মধ্যে পার্থক্য হয় নাকি? আমি বলবো যে, আউটসোর্সিং আর ফ্রীলান্সিং দুইটা আলাদা কথা বা এর ধরনও আলাদা।

মনে করেন, আপনি কোন মার্কেটপ্লেস-এ ডাটাএন্ট্রি নিয়ে কাজ করেন এবং আপনি বেশ দক্ষ। কোন কোম্পানি একটা জব অফার করল, আপনিও সবার মত কাজটি করার জন্য অ্যাপ্লাই করলেন এবং শেষ পর্যন্ত আপনি কাজটি পেয়ে গেলেন। আপনার দক্ষতা দেখিয়ে কাজটি যথা নিয়ম-এ শেষ করার পর সেটি জমা দিয়ে দিলেন।

এখন আমার প্রশ্ন, এখানে ফ্রীলান্সার কে? কে ফ্রীলান্সিং করল? উত্তর হবেঃ আপনি।

আউটসোর্সার কে? কে আউটসোর্সিং করল? উত্তর হবেঃ ক্লায়েন্ট

ক্লায়েন্ট তার কাজের কিছু অংশ বা সম্পূর্ণ অংশ তার কাজের বাইরে আপনাকে দিয়ে করিয়ে নিল। তিনি আপনার করে দেয়া কাজটির মাধ্যমে আউটসোর্সিং করলেন। তিনি হচ্ছেন ক্লায়েন্ট। আর আপনি যে কাজটি করে দিলেন আপনি হচ্ছেন ফ্রীল্যান্সার।

কোন কাজ গুলো দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করা যায়?

ফ্রীল্যান্সিং-এ সেরা পাঁচটি কাজ হচ্ছে…

১। ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট
২। ওয়েব ও গ্রাফিক্স ডিজাইন
৩। ব্লগিং অ্যান্ড অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
৪। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন
৫। কনটেন্ট রাইটিং

এর বাহিরে আরও আছে, লোগো ডিজাইন, লিড-জেনারেশন, ডাটাএন্ট্রি, ভিডিও এডিটিং আরও অনেক কিছু রয়েছে যেখান থেকে অনেক টাকা আয় করছে অনেক ফ্রীল্যান্সার।

কেন ফ্রিল্যান্সিং করবেন বা ফ্রিল্যান্সার হবেন?

ফ্রিল্যান্সিং কে অনেকে আয়ের প্রধান উৎস বানিয়ে নিয়েছে। আবার অনেকে পকেট মানি রাখার জন্যে করে থাকে। তবে ফ্রিল্যান্সিং কেন করবে কথাটার উত্তর একবারে দেয়ার নয়। চলুন পয়েন্ট আকারে দেয়া যাক,

১. আপনি সিদ্ধান্ত নেবেন আপনি কখন কাজ করবেন।

ধরুন আপনি ঘুম থেকে ওঠেন সকাল ১০ টায়। সকালের নাস্থা আর ফ্রেশ হতে ১০ঃ৩০। আপনি এর পর সুস্থ মাথায় আপনার ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শুরু করতে পারেন, এতে কোন বাধা ধরা নিয়ম নেই। আপনি কোন কাজ সকালে বা বিকালে কিংবা রাতেও করতে পারেন। কিন্তু আপনি কোন অফিশিয়াল কর্মচারীকে দেখেছেন যে, সকালে অফিস না গিয়ে বিকালে বা রাতে গিয়েছে, বা একদিন অফিস-এ না গিয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়েছে।

২. আপনিই সিদ্ধান্ত নেবেন কোথায় বসে কাজ করবেন।

অফিশিয়াল কর্মচারীদের কোথাও ঘুরতে ইচ্ছা হলেই ঘুরতে পারে না। পরিবারের সাথে যখন তখন কোথাও জেতে পারে। হুট করে থাকার জায়গা পরিবর্তন করতে পারে না। কিন্তু ফ্রিল্যান্সার দের তেমন কোন সমস্যা নেই যেখানে ইচ্ছা সেখানেই বশে কাজ চালিয়ে নিতে পারে।

৩. আপনি কতটা আয় করতে চান?

আপাতদৃষ্টিতে কথাটির অর্থ ব্যতিক্রম বোজালেও এর সঠিক মানে আছে। যেখানে দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা শেষ করার পর ২০ হাজার টাকার চাকরির জন্যে কয়েক লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়। ঘুষ দিয়েও বলা যায় না যে চাকরীটা অবশ্যয়ই হবে। সেখানে আপনার দক্ষতা অনুযায়ী ফ্রীতে কাজ নিয়ে করতে পারেন। আপনার স্কিল বা দক্ষতার উপর নির্ভর করবে আপনি কি পরিমান অর্থ উপার্জন করতে পাবেন।

ফ্রিল্যান্সিং চাহিদা ও ভবিষ্যৎ কেমন?

প্রযুক্তির কল্যাণে প্রতিটি মানুষ অনলিনের দিকে বেশি বেশি জুকছে। এ দেশে তোহ একটা রেওয়াজ চালু হয়েছে যে অনলিনে এ কিছু থাকুক আর না থাকুক একটা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থাকা চাই।

বড় বড় ব্যবসা বাণিজ্য থেকে শুরু করে পণ্য আনা নেওয়া, অফিশিয়াল কর্মী পরিচালনা সব কিছু অনলিনে নির্ভর হচ্ছে। বর্তমানে ভার্চুয়াল অফিস এর কল্যাণে ফ্রিল্যান্সারদের চাহিদা প্রত্যেক তা অফিসে কম বেশি আছে। সম্প্রতি ফ্রিল্যান্সাররা বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বিশাল একটা অংশ ধরে আছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বাংলাদেশের তৃতীয় স্থানে আছে ফ্রিল্যান্সিং।

কোন বয়স থেকে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবো?

অনেকেই বলেন যে, ফ্রিল্যান্সিং শুধু তরুণ যুবক আর যুবতী এর জন্যে। যারা এমনটা ভাবছেন তাদের ধারণা ভুল। ফ্রিল্যান্সিং ১৪-৬০ যেকোনো বয়সে শুরু করতে পারেন। এটা অফিশিয়াল কর্মচারীদের মত নয় যে একটা সময় পর আপনি এটা করতে পাবেন না।

পুরুষ-মহিলা এর ভেদাভেদ ফ্রিল্যান্সিং এ নেই, যে কেউ এ পেশায় জরিত হতে পারে।

কি কি যোগ্যতা লাগবে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য?

ফ্রিল্যান্সার হওয়ার আগে সর্বপ্রথম যে প্রশ্নটার সম্মুখীন হতে হয়, আমি কি সফল হতে পারব? ফ্রিল্যান্সার হওয়ার জন্যে কি থাকা লাগে?

একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হতে গেলে আপনার ৩টি জিনিস অবশ্যই থাকতে হবে ১. আগ্রহ  ২. আত্মবিশ্বাস  ৩. ধৈয্য।

কোন বিষয় নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবো?

ফ্রিল্যান্সিং-এ কোন বিষয়ে তাড়াতাড়ি আয় করা যায় বা কোন কাজ খুব সহজ হবে এই ধরনের প্রশ্ন করা বোকামি। ফ্রিল্যান্সিং একটি মুক্ত পেশা। তাই বলে এই নয় আজকেই কাজ শুরু করলে কাল থেকে আয় চলে আসবে।

শুরুতেই জানুন কোন কোন বিষয়ে সবাই কাজ করে বিভিন্ন কাজের নাম আর ধরন। আইডিয়া নিতে থাকুন। যে বিষয়ে শুরু করতে চাচ্ছেন পরবর্তীতে সেটা ভালো নাও লাগতে পারে। এখানে যে দুটি বিষয় লক্ষ্যনীয় নেশা এবং পেশা। আপনি গান শুনতে পছন্দ করেন সেই বলে গান গাইতে নয়। গান শোনাটা আপনার নেশা, পেশা নয়।

ফ্রিল্যান্সিং এর সব বিষয় জানার পর সিদ্ধান্ত নিন কোন কাজটি আপনার বেশি ভালো লাগে। তবে, গ্রাফিক্স ডিজাইন আপনাকে অনেক ভালো লাগে তার মানে এই নয় যে আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইন করে ফ্রিল্যান্সিং করতে পাবেন। এর জন্যে যে যে দক্ষতা গুলো থাকা দরকার প্রায় সব আপনার মধ্যে থাকতে হবে। নিজেকে প্রশ্ন করুন আমি কি পারব? আমার কতটুকু দক্ষতা আছে? আরও কত দক্ষতা অর্জন করতে হবে? এই কাজ করে আমি কি উপার্জন করতে পারব? এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর বের করতে পারলেই আমি সফল ফ্রিল্যান্সার হতে পারবেন।

কত সময় লাগে ফ্রিল্যান্সিং শিখতে? বা আর্নিং লেভেল স্কিল করতে?

শেখার কোন নির্দিষ্ট সময় থাকে না। আপনি যদি বলেন আমি আজ থেকে ইন্টারনেট এর অধ্যায় খুললাম A-Z শেষ করব। তাহলে আপনার কয়েক জনমেও শেষ করা হবে না। সেই বলে আয় করতে পাবেন না এমনটা নয়। এর জন্যে আপনি যে বিষয়ে কাজ করতে চান তার ন্যূনতম দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

১। অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট/সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট (৩-৪ বছর)
২। ওয়েব ডিজাইন/ওয়েব ডেভেলপমেন্ট (২-৩ বছর)
৩। গ্রাফিক্স ডিজাইন (১-২ বছর)
৪। এসইও (৩-৪ মাস)

তবে নিজের দক্ষতা ও পরিশ্রম এর উপর আরও কম সময়ে শেখা যায়।

কোথায় থেকে ফ্রিল্যান্সিং শিখবো?

বাংলাদেশে এখন অনেক ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে, সেখান থকে কোর্স নিয়ে শিখতে পারেন। অথবা,

ইন্টারনেট
পেইড কোর্স
ইউটিউব
বিভিন্ন ব্লগ

কত টাকা লাগে ফ্রিল্যান্সিং শিখতে

টাকার বিষয়টা নির্ভর করে আপনি কোর বিষয় এ শিখবেন। অথবা কোর্স এর ডিমান্ড এর উপর।

আসলে ফ্রিল্যান্সিং করে আর্নিং কি সম্ভব?

ফ্রিল্যান্সিং করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব কিনা সেটা বর্তমান খবরের কাগজ দেখলে বোজা যায়।

কোথায় কাজ পাব, ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস পরিচিতি।

বিশ্ব জুরে অনেক মার্কেটপ্লেস রয়েছে ফ্রিল্যান্সার দের জন্যে।

https://www.upwork.com
http://fiverr.com
http://www.freelancer.com
https://www.peopleperhour.com
http://www.guru.com
http://99designs.com
http://www.getacoder.com
joomlancers.com
facebook.com
linkedin.com

টাকা কিভাবে পাবো?

আপনি যদি মার্কেটপ্লেস এ কাজ করেন তাহলে কাজ শেষে টাকা আপনার মার্কেটপ্লেস এর অ্যাকাউন্ট এর জমা হয় থাকবে। Payonner, paypal, or direct bank এর মাধ্যমে টাকা পেতে পারেন। তবে Paypal সব জায়গায় support করলেও এখানে রিস্ক বেশি।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.